শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৫

এষ্টিমেট সম্পর্কিত দরকারি কিছু কথা


প্রস্তাবিত প্রকল্পের এষ্টিমেট
করা বেশ জটিল। কারন,  এখানে অনেক
বিষয় জড়িত থাকে। সঠিক
পর্যালোচনা, প্রশিক্ষণ
এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ভাল
প্রকৌশলী হওয়া যায়। প্রকল্পের মূল্য
নির্ধারণে বিভিন্ন বিভাগ মুখ্য
ভূমিকা রাখে। একজন ভাল এষ্টিমেটরএর এইগুলি সম্পর্কে জানতে হবে এবং সাবধান হতে হবে।
এষ্টিমেট চূড়ান্ত করার পূর্বে কিছু
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে দেয়া হল।
১) অনুরূপ প্রকল্প: একই ধরনের প্রকল্প
থেকে ধারনা  নিয়ে এসটিমেট
করলে খুব ফলপ্রসূ হয়। অনুরূপ প্রকল্পের
অভিজ্ঞতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
২) উপাদানের দাম: মালামলের
ভরসাপুর্ণ দাম জানতে হবে । একই
সাথে খেয়াল
রাখতে হবে যে মালামালের পরিবহন
খরচ কেমন হবে।
৩) মজুরি: মজুরি খরচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মালামালের স্থানীয় দাম
জানতে হবে। একই
সাথে জানতে হবে সরকার বা উর্দ্ধতন
কর্মকর্তার নির্ধারিত মূল্য।
৪) সাইট এর অবস্থা: সাইট এর অবস্থার
উপর প্রকল্প ব্যয় নির্ভর করে। যেমন
খারাপ মাটি, বেজ মাটি, আবর্জনা,
সার্ভিস লাইন ইত্যাদি।
৫) মুদ্রাস্ফীতি: মুদ্রাস্ফীতি খুব বড়
রকম প্রভাব রাখে। প্রকল্প সময়
এবং মুদ্রাস্ফীতির হার এর
সমন্বয়ে এসটিমেট করতে হবে।
৬) দরপত্রের সময়: দরপত্রের সময়
একটি ভাল ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন
মৌসুমে দরপত্রের কারণে প্রভাব
বিভিন্ন রকম হয়।
৭) প্রকল্প সময়সূচি: সিড্যিউল এর উপর
মূল্য বলভাবে নির্ভর করে। যেমন খুব
কম সময়ে করতে হলে তুলনামূলক
বেশি খরচ হবে। আবার সাধারণ সময়
এর চেয়ে বেশি সময় লাগলেও খরচ
বেড়ে যায়। কেননা এর
সাথে মুদ্রাস্ফীতি ও কর্মচারী খরচ
বেড়ে যায়। প্রকল্প শুরুর
বেশি পূর্বে দরপত্র করলেও দাম
বাড়তে পারে (এতে করে কনট্রাকটর
কারণ দেখিয়ে দাম বাড়বে)
৮) মানসম্মত প্লান
এবং স্পেসিফিকেশন :
বলভাবে তৈরি প্ল্যান এবং বিশদ
বর্ণনা ছাড়া ভাল এসটিমেট
করা অসম্ভব। এতে করে কনট্রাকটর
দের বুঝতে অসুবিধা হয়
এবং পরবর্তীতে ঝামেলা হয়। যার
কারণে এসটিমেট ভাল হয় না।
৯) প্রকল্প প্রকৌশলীর সুনাম :
যদি প্রকৌশলীর বা প্রতিষ্ঠানের খুব
ভাল সুনাম থাকে তাহলেও প্রকল্প
ব্যয় পার্থক্য হয়। কনট্রাকটর এয়ের
সাথে ভাল সম্পর্ক থাকলেও কাজ
করতে সুবিধা হয় এবং কংত্র্ক্টর কম
দামে দরপত্র দেয়। উভয়ের মধ্যে ভাল
সম্পর্ক থাকলেই অল্প সময়ে প্রকল্প
সুন্দর ভাবে শেষ করা সম্ভব। যায় ব্যয়
এর উপর প্রভাব ফেলে।
১০) অনুমোদিত এজেন্সি: যদি কোনও
প্রতিষ্ঠান তহবিল প্রদান
করে থাকে তখন খরচ কিছুটা বারে।
কেননা এতে করে দলীলাদি বা কাগজপ
ত্র বেশি করতে হয়। যা মোট খরচের
উপর প্রভাব ফেলে।
১১) নিয়ন্ত্রণ সংস্থা:
কখনো কখনো নিয়ন্ত্রণ সংস্থা কর্তৃক
অনুমোদন নিতে হয়। তাই
বিষয়গুলি খেয়াল রাখতে হবে।
কেননা এখানেও অনেক খরচ হয়।
১২) বীমা প্রয়োজনীয়তা : যদি বিমার
প্রয়োজন হয় তাহলেও এটি হিসাবের
মধ্যে রাখতে হবে।
১৩) প্রকল্পের আকার: প্রকল্পের
আকার এবং জটিলতার উপর নির্ভর
করে যে স্থানীয় কনট্রাকটর
এটি করতে পর্বে কী পর্বে না। যার
কারণে একটি বড় অংশ নির্ভর করে এর
উপর।
১৪) কাজের স্থান : কাজের স্থানের
উপর এও নির্ভর করে। এবং এর প্রভাব
বড়। যেমন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভাল মজুর
পাওয়া যায়না। আবার বেইসি খরচপূর্ণ
এলাকাতে মজুর খরচ বা অন্য জিনিস
এর দাম বেশি। আবার প্রত্যন্ত
অঞ্চলে পরিবহন খরচ বেশি।
১৫) উপকারিতা যাচাই করানো : বড় বড়
প্রকল্প করার সময় সাধারনত এর
উপকারী যাচাই করে নিতে হয় কোনও
নিয়োজিত সংস্থা কর্তৃক। তাই এটাও
জেনে নিতে হবে এবং যদি এর
প্রয়োজন হয় তাহলে এটি হিসাব
করে এসটিমেট করতে হবে।
১৬) অনিশ্চয়তা: কিছু বিষয়
থাকে যা অনেক সময় হিসাব
থেকে বাদ পড়ে যায়। তাই
নিরাপত্তার জন্য মোট খরচের ১০
শতাংশ অতিরিক্ত হিসাব করা হয়।
১৭) অধিক তদন্ত : কিছু প্রকল্প সাইট
এর অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন
পরথে পারে। যেমন পরিবহন ব্যবস্থা,
রাতে কাজ করার অবস্থা,
চাদবাজি ইত্যাদি।
১৮) রায়: সর্বশেষ এসটিমেট করা হয়
বিচক্ষণতা, অভিজ্ঞতা বিচারে।
অনেক সময় অভিজ্ঞতা থেকে মোট
এসটিমেট এর উপর কিছু অতিরিক্ত
ধরে এসটিমেট করা হয়।

ঢালাই লোহা, পাকা লোহা ও স্টীল সম্পর্কে জেনে রাখুন

বিভিন্ন ধরণের লোহা ও স্টীলের
তুলনামুলক বৈশিষ্ঠ্য
গুনাগুণ
কাষ্ট আইরণ
রট আইরণ
স্টীল গঠণ অশোধিত আইরণ বা লোহা, এতে 2.5%-4.5% লোহা থাকে
শোধন করা লোহা এইটা, এতে 0.2%
কার্বণ থাকে
এটি কাষ্ট ও রট আইরণ এর
মধ্যবর্তি অবস্থা, এতে 0.1-1.1%
কার্বণ থাকে।
কাঠামো
ক্রিস্টালাইন
ফাইবার জাতীয়
গ্রাণুলার
আপেক্ষিক ভর
7-7.5 হয়ে থাকে
7.8 এর মত
7.85 এর মত
মেল্টিং পয়েন্ট
1250 ডিগ্রি সে:
150 ডিগ্রি সে:
1300-1400 সে:
হার্ডনেস / মজবুত
বেশ শক্ত। তাপ দিয়ে এবং হঠাৎ
ঠান্ডা করে আরও মজবুত করা যায়
এটা মজবুত করা যায় না
এটা মজবুত করা যায় এবং টেম্পার্ড
করা যায়।
আল্টিমেট শক্তি (এম.পি.এ)
চাপ-600-700
টাণ-120-150
চাপ-200
টাণ-400
চাপ-180-350
টাণ- 310-700
হঠাৎ আঘাতে
এটা হঠাৎ আঘাত সহ্য করতে পারে না মাঝারি পারে, কিন্তু
বেশি হলে পারে না
এটার ইমপ্যাক্ট লোড বা হঠাৎ আঘাত
সহ্য ক্ষমতা অনেক
চৌম্বকীয়
একে চৌম্বক বানানো যায় না
স্থায়ী চৌম্বক করা যায় না, কিন্তু
অস্থায়ী করা যায়
স্থায়ী চৌম্বক বানানো যায়।

নির্মানকালে ভবনের লে-আউট দেয়া

যেকোন কাজ শুরু করার
আগে কাজের
একটি রূপরেখা বা লে-আউট
তৈরী করা খুবই দরকার। যেমন
ধরুনঃ কোন দর্জি যখন পোষাক
তৈরী করে তখন কাপড় কাটার
আগে কাপড়ের উপর একধরণের
দাগ দিয়ে নেয়। পরে সেই দাগ
অনুসারে কাপড় কাটে সেলাই
করবার জন্য। এই কাপড় কাটবার
আগে দাগ দিয়ে নেয়া কে ওই
পোষাকের জন্য লে-আউট
দেয়া বলা হয়। ঠিক
তেমনি কাগজ়ে আকা ভবনের
নকশাকে প্রকৃত মাপ জোপের
মাধ্যমে জমিতে স্থানান্তর
করাকে প্রকৌশলবিদ্যায়
ভবনের লে-আউট
দেয়া বোঝায়।
ভবনের নকশা, কাগজের উপর
ছোট স্কেলে আকা থাকে।
এখানে ড্রয়িং এর
কাগজটিকে বাস্তব ভুমির ছোট
সংষ্করণ বলা যেতে পারে।
কাগজ়ে আকা নকশাটিকে প্রকৃত
স্কেলে জমিতে চিহ্নিত
করতে হয়, যাতে সহজেই
প্রতিটি কলামের সঠিক
অবস্থান, নির্মানাধীন ভবনের
ওরিয়েন্টেশন
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-
ভবনটি সীমানার
ভিতরে আছে কিনা তা নির্ণয়
করা যায়।
ড্রয়িং হলো প্রকৌশলীদের
যোগাযোগের জন্য
একটি আন্তর্জাতিক ভাষা।
কোন ভবনের লে-আউট দেয়ার
জন্য যে ড্রয়িং তৈরী করা হয়
সেখানে সাধারনত a,b,c,d…… ও
1,2,3,4…… এই দুই ধরণের গ্রীডলাইন
ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
a,b,c,d…… গ্রীড
লাইনগুলো একে অপরের
সমান্তরাল আবার 1,2,3,4……
গ্রীড লাইনগুলোও পরষ্পর
পরষ্পরের সমান্তরাল
হয়ে থাকে। কিন্তু a,b,c,d……
গ্রীড লাইনগুলো 1,2,3,4…… গ্রীড
লাইনের সাথে সমকোণ
তৈরী করে। এই দুই ধরণের গ্রীড
লাইনের ছেদ
বিন্দুটিতে সাধারণতঃ কলাম
বা দেয়ালের অবস্থান
করে থাকে।
লে-আউট দেয়ার প্রধান কাজ
হলো ড্রয়িং থাকা উপরে
বর্ণিত ঐ সমস্ত
গ্রীডলাইনগুলোকে বাস্তব
মাপজোপের মাধ্যমে প্রকৃত
জমিতে স্থানান্তর করা।
কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে সেই
কাজটি প্রকৌশলীরা করে
থাকেন-
প্রথমে একটি বেসলাইন
(Baseline)
বা সীমারেখা নির্ধারণ
করতে হয়।
সীমারেখাটি সাধারণতঃ
পার্শ্ববতী কোনো ভবন
বা রাস্তার
মধ্যরেখা (centerline) এর
সমান্তরালে একটি নির্দিষ্ট
দুরুত্বে চিহ্নিত করা হয়।
বেসলাইনের সমান্তরাল
করে ড্রয়িং এ অঙ্কিত
বিভিন্ন
গ্রীডলাইনগুলো (a,b,c,d……)
কে ভূমিতে স্থানান্তর
করা হয়। কিছু
অস্থায়ী বাঁশের খুটির
সাহায্যে এই সমস্ত
গ্রীডলাইনগুলোকে চিহ্নিত
করা হয়।
এরপর যেকোন
একটি সুবিধামত
গ্রীডলাইনের (1,2,3,4……)
সাথে সমকোণে রেখে
আরেকটি গ্রীডলাইন
চিহ্নিত করা হয়।
একইভাবে লম্ব বরাবর
যে গ্রীডলাইন পাওয়া গেল
সেগুলো সমান্তরাল
করে আগের মত আবার নতুন
গ্রীডলাইন বসানো হয়।
সাময়িক বা অস্থায়ী খুটির
বদলে কংক্রীটের
খুটি ব্যবহার করে গ্রীডলাইনগুলোকে
স্থায়ী করে রাখা হয়
যাতে ভবিষ্যতে যেকোন
প্রয়োজনে গ্রীডলাইনগুলো
অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
লেভেল মেশিনের
সাহায্যে রাস্তার চুড়ার
তলের উপর ভিত্তি করে ভবনের প্লিন্থ
লেভেল নির্ধারণ করতে হয়।
প্লিন্থ লেভেলের
চিহ্নটি এমন এক
স্থানে রাখতে হয়
যেখানে সহজে যাওয়ার
ব্যবস্থা আছে,
সহজে দেখা যায় ও ভবন
নির্মানের শেষ পর্যন্ত যেই
স্থানের অস্তিত্ব থাকবে।
পরষ্পর লম্ব দুইটি গ্রীডলাইনের
ছেদবিন্দু থেকে কলাম ও
ফাউণ্ডেশনের সাইজ,
অবস্থান এবং গভীরতা নির্ধারণ
করা হয়। কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরষ্পর লম্ব
চারটি গ্রীডলাইনের
দ্বারা আবদ্ধ বর্গক্ষেত্রের
কর্ণের দৈর্ঘ বারবার
পরীক্ষা করতে হয়
যাতে উক্ত গ্রীডলাইনগুলোর
মাঝে ৯০ ডিগ্রি থাকে।
কারণ
আমরা জানি একটি পূর্ণাংগ
বর্গক্ষেত্রের কর্ণ দুইটি সবসময়
সমান থাকে।
ভবনের লে-আউট দেয়া ভবন
নির্মানের বেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এটি আসলে গণিতের
জ্যামিতি বিষয়ের
একটি পরিপূর্ণ ব্যবহারিক ঘটনা।
ভবনে লে-আউট দিয়ে কাজ
করলে বিভিন্ন
সুবিধা পাওয়া যায় যেমনঃ
ভবন নির্মানের ক্ষেত্রে ভুল
হবার সম্ভাবনা কম হয়।
ভবন নির্মান কাজে ব্যবহৃত
ফোরম্যান
বা মিস্ত্রি সঠিক-সুন্দর
ভাবে ও নির্বিঘ্নে কাজ
চালিয়ে যেতে পারে।
নির্মান কাজের বিভিন্ন
পর্যায়ে কলামের অবস্থান
পূনঃপরীক্ষার জন্য
স্থায়ী লে-আউটের
প্রয়োজন হয়।
ভবনের নকশা বা আসল
জমিতে কোন রকম
সমস্যা থাকলে লে-আউট
চলাকালীন সময়ে সংশোধন
করা যেতে পারে।
ভবনের লে-আউট দেয়ার জন্য
আজ কাল টোটাল ষ্টেশনের বহুল
ব্যবহার চোখে পড়ছে।
বাংলাদেশে বেশ কিছু
ডিজিটাল
সার্ভে কোম্পানী আছে যারা
টোটাল ষ্টেশনের
মাধ্যমে নির্ভুলভাবে
ইমারতের লে-আউট
দিয়ে থাকে।তারপরও
নিচে লে-আউট দেয়ার জন্য
প্রয়োজনীয় উপাদানের নাম
দেয়া হলঃ
- টোটাল ষ্টেশন বা লেভেল
মেশিন
- নাইলনের সুতা
- পেরেক
- হাতুড়ি
- অস্থায়ী বাঁশের খুটি
- স্থায়ী কঙ্ক্রীটের খুটি
- স্টীলের একটি বড়
সমকোনী ত্রিভুজ
- স্টীল টেপ (১০০ ফুট)
- মাঝারি সাইজের প্লাম্ব বব
বা ওলোন।

building এর বেইজ ডিজাইন করার আগে করনীয়


অবশ্যই বিল্ডিং এ আগত লোড সম্পর্কে অবগত হতে হয় । যেসব লোডগুলো অবশ্যই হিসাব করা উচিত, সেগুলো নিয়েই আজকের আলোচনাঃ

১. ডেড লোডঃ কাঠামোর উপর
স্থায়ীভাবে চাপানো লোডই হলো ডেড লোড।
যেমন- ছাদ, বীম, দেয়াল, কলাম, স্থায়ী যন্ত্রপাতি ইত্যাদি । কাঠামো, মালামালের আকার-আকৃতির মাধ্যমে এ লোডের হিসাব করা হয় ।
২.লাইভ লোডঃ কাঠামোর উপর অস্থায়ীভাবে চাপানো লোডই হলো সচল লোড ।
যেমন- লোকজন, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি । সঠিকভাবে এ লোডের হিসাব করা কঠিন ।
তাই বিল্ডিং কোড অনুযায়ী এসব লোড হিসাব করা হয় ।
৩. উইন্ড লোডঃ কাঠামোর বাইরের পৃষ্ঠে ঝড়, বাতাস ইত্যাদির কারনে উদ্ভুত লোডই, উইন্ড লোড । কাঠামোর যেদিকে বাতাস লাগে, সেদিকে ভিত্তির উপর চাপ কমে যায় এবং অপরদিকে চাপ বেড়ে যায় ।
এ লোডও বিল্ডিং কোড অনুযায়ী হিসাব করা হয় ।
৪. মাটির চাপঃ কাঠামোর
উপর মাটি কর্তৃক প্রদত্ত চাপকেই মাটির চাপ বলে ।
র্যানকিনের সূত্র অনুযায়ী এ
চাপ হিসাব করা হয় ।
৫. পানির চাপঃ যখন কোন ভিত্তি পানি তলের নিচে অবস্থিত থাকে,
তখন পানি ঐ ভিত্তিকে আনুভূমিক ও
উর্দ্ধমুখী চাপ প্রয়োগ করে । এটাই পানির চাপ ।
৬. ভূকম্পন লোডঃ ভূ-কম্পন জনিত কারনে সৃষ্ট বল সাধারনত ভিত্তিতে উলম্ব নিচের দিকে বা
মোচড়ানোভাবে যে কোন দিকে কাজ করে । ভূ-কম্পন বল বাংলাদেশের জন্য খুবই হুমকি সরূপ ।
তাই এটিকে অধিক গুরুত্ব দেয়া উচিত ।
৭. তুষার লোডঃ শীত প্রধান দেশে সমতল পৃষ্ঠে বা ছাদে প্রচন্ড বরফ পড়ে । তাই এসব দেশে এই লোডেরও হিসাব করা হয।

বিভিন্ন ধরনের সিমেন্ট এর গঠন এবং কার্যকারিতা


র্যাপিড হার্ডেনিং
লাইম বা চুনের পরিমান বেশি
খুব তাড়াতাড়ি শক্ত হয়।
যেখানে দ্রত ফর্মওয়ার্ক
সরিয়ে ফেলতে হয়
সেখানে এটি ব্যবহার করা হয়।
কুইক সেটিং
সামান্য পরিমান এলুমিনিয়াম
সালফেট বাড়ানো হয়
এবং জিপসাম এর পরিমান
কমানো হয়।
অল্প সময়ে কাজ শেষ করার জন্য।
সাধারণত পানির মধ্যে এই
ধরণের সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়।
লো হিট
ট্রাই ক্যালসিয়াম এলুমিনেট
এর পরিমান কমিয়ে
অনেক বড় ঢালাই এর কাজে,
যেমন ড্যাম বা বাধ নির্মাণ
সালফেট রেজিসটিং
ট্রাই ক্যালসিয়াম এলুমিনেট
এর পরিমান ৬ শতাংশের
নিচে নিয়ে আসা
অত্যাধিক সালফেট এর
সংস্পর্শে থাকার
সম্ভাবনা থাকলে,
পানি বা মাটির
নিচে সাধারণত । যেমন
ক্যানেল এর ধার,
রিটেইনিং ওয়াল ইত্যাদি
ব্ল্যাস্ট ফার্ণেস স্ল্যাগ
৬০ শতাংশ স্ল্যাগ সহ
ক্লিংকার গ্রিন্ডিং করে
খরচ কমাতে এর ব্যবহার করা হয়
হাই এলুমিনা
বাইঅক্সাইট এবং চুন এর
মিশ্রনে, এর সেটিং টাইম
সাড়ে তিন থেকে পাঁচ ঘন্টা
উচ্চ তাপ, ঠান্ডা-গরম
এবং এসিডিক
আবহাওয়া থাকলে
হোয়াইট
আয়রন অক্সাইড মুক্ত কাচামাল
ব্যবহার করে
স্থাপত্যিক সৌন্দর্য্য এর জন্য
কালার্ড
সাধারণ সিমেন্ট এর
সাথে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ
ব্যবহার করে
ডেকোরেটিভ বা সৌন্দর্য্য
এর জন্য
পোজ্জলানিক
পোর্টল্যান্ড সিমেনট এর
সাথে পৌজ্জালানিক
ক্লিংকার ব্যবহার করে
পানিতে ব্যবহার করার জন্য
এয়ার এনট্রেইনিং
ক্লিংকার
গুড়া বা গ্রিনডিং করার সময়
খনিজ এবং অপরিশোধিত
রেজিন, আঠা, সোডিয়াম
লবন ইত্যাদি ব্যবহার করে
অল্প পানি ব্যবহার করেও
কার্যউপযোগিতা বাড়ানো
হাইড্রোগ্রাফিক
পানিরোধী বিভিন্ন
কেমিক্যাল ব্যবহার করে
কার্য্যউপযোগিতা এবং
স্ট্রেন্থ অনেক বেশি।

ফাউন্ডেশন কি, কেনো প্রয়োজন? (Foundation)

ফাউন্ডেশন (Foundation) একটি বিল্ডিং বা কাঠামোর জন্য অনেক গুরুত্বপুর্ণ। কিন্তু কেন এই ফাউন্ডেশন? এটি না করলে কি হতো?
আসুন ফাউন্ডেশনের কার্যকারীতা সম্পর্কে কিছু জানি।
ভার বহনের তিব্রতা কমানোর জন্যঃ

যেমন ধরুন,
একটি কলামে লোড আসলো ৩৮৪ কিলো পাউন্ড (KP) এবং এই কলামের সাইজধরে নিলাম ১৬
ইঞ্চি এবং ১২ ইঞ্চ। এখন তাহলে কলামের ক্ষেত্রফল ১৬ X ১২ = ১৯২ বর্গ ইঞ্চ (Coloumn Are 16 X12 =192 square inch)।
তাহলে প্রতি বর্গ  ইঞ্চিতে লোড
আসলো ৩৮৪/১৯২ = ২ কিলো পাউন্ড বা ২০০০ পাউন্ড।
এখন এই লোড যদি সরাসরি মাটির উপর দেয়া হয়,
তাহলে মাটি সেই লোড নিতে পারবে?
না। পারবে না।
কলাম মাটি ভেদ করে বা ছিদ্র
করে নিচে চলে যাবে।

ধরি,
মাটির বিয়ারিং ক্যাপাসিটি ২ টি.এস.এফ (tsf) বা ২ X ২০০০ = ৪০০০ প্রতি বর্গ ফুটে বা ৪০০০/১৪৪ = ২৮ পাউন্ড প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে (28 cft)।
সুতরাং, এখানে দেখতে পাচ্ছি যে মাটির ক্ষমতার চেয়ে কলামের অর্পিত
বিল্ডিং এর লোড ২০০০/২৮ = ৭২ গুন বেশি। সুতরাং এই তিব্রতা কমানোর জন্য কলামের সাইজ ৭২ গুন বাড়িয়ে দিতে হবে। তাই
ফাউন্ডেশনের আকার হবে ৭২ X ১৯২ = ২৩০৪ বর্গ ইঞ্চ বা ২৩০৪/১৪৪ = ১৬ বর্গফুট।

যেমন ধরুন,
দুইটি কলাম আছে এবং একটি কলামের লোড অপেক্ষা অন্য কলামের লোড বেশি। কম্বাইন ফাউন্ডেশন এ এই   দুইটি কলামের লোড একটি ফাউন্ডেশনের
মাধ্যমে সমভাবে ছড়িয়ে দেয়া হয়। অথবা একাধিক কলামের বিভিন্ন লোড ম্যাট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মাটিতে সমভাবে ছড়ানো হয়, যদিও বিভিন্ন কলামের লোড বিভিন্ন হয়।
ফাউন্ডেশন একটি সমান পাটাতন তৈরি করে যার উপর কাঠামোটি দাড়
করানো হয়।
এটি কাঠামোকে মাটির সাথে আটকে রাখে। যাতে করে আনুভুমিক লোড
(ভুমিকম্প, বাসাতের লোড বা কম্পনের) এর কারণে কাঠামোটি সরে
না যায় কাঠামোর তলার মাটিকে সরে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
এতে করে কাঠামো ঝুকি মুক্ত হয়।

আর সি সি (RCC) ডিজাইন এর ৩টি পদ্ধতি (Method)

1. USD = আল্টিমেট স্ট্রেংথ ডিজাইন ( USD)
পদ্ধতিতে কাঠামোর উপাদান কে ফেইল বা ভাঙার অবস্থায় বিবেচনা করা হয়। এসিআই কোডে এই পদ্ধতিকে বেশি বেবহার করে বা জোর দেয়।

2. WSD = ওয়ার্কিং স্ট্রেস ডিজাইন (WSD)
এই পদ্ধতি ইলাস্টিক থিওরি এর উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
বর্তমানে এই পদ্ধতি বেবহার করা হয় না।

3. LSD =
লিমিট স্টেট ডিজাইন (LSD)
এটি  ইউএসডি এর থেকে উন্নত
একটি উপায়। এখানে মেম্বার এর অবস্থার সীমা নির্ধারন করে ডিজাইন করা হয়।

FAR, MGC, Setback মানে জেনে নিন


FAR = Floor Area Ratio.
মোট তৈরিকৃত কাঠামোর ক্ষেত্রফল এবং জমির ক্ষেত্রফলের অনুপাত।

MGC = Maximum Ground Coverage.
প্রথম তলা বা গ্রাউন্ড ফ্লোর জমির সর্বোচ্চ যেই অংশের পরিমান হতে পারবে। কেননা পুরো জমি জুড়ে
কাঠামো তোলা যায়না, কিছু জায়গা ছেড়ে দিতে হয়।

Setback = জমির সীমানা সংলগ্ন যেই অংশ ছেড়ে দিতে হয় তাকে সেটব্যাক বলে।
সীমানা প্রাচীর ঘেষে মুল কাঠামো তৈরি করা যাবে না।

শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৫

সহজে জেনে নিন বাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া

১) ভালো জমি চেনা
বাড়ি বানানোর
পরিকল্পনায়
আপনার প্রথম ধাপ
হবে উপযুক্ত
জমি বেছে নেয়া।
এটি অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ
সিদ্ধান্ত, আর
সিদ্ধান্তটি নেবার
আগে আপনার
অবশ্যই
কয়েকটি জরুরি
বিষয় মাথায়
রাখা উচিত।
বিষয়গুলো হচ্ছে:
আপনার জমিটি খুব
উঁচু জায়গায়
হলে বাড়ির
ফাউন্ডেশন
তৈরি করতে
অতিরিক্ত খরচ,
পরিশ্রম ও সময়
লাগতে পারে
আপনার জমি খুব
নিচু জায়গায়
হলে সুয়্যারেজের
সমস্যা আর
পানিবদ্ধতা দেখা
দিতে পারে
আপনার জমির
মাটিতে বালির
পরিমাণ বেশি হলে
ফাউন্ডেশন মজবুত
হবে না
আপনার
জমিটি উঅচ-এর
অন্তর্ভুক্ত
কিনা তা নিশ্চিত
করুন
নিজের ও
প্রিয়জনদের জন্য
একটি সুন্দর
বাড়ি নির্মাণের
স্বপ্ন আমরা সবাই
দেখি।
বাড়ি নির্মাণের
স্বপ্নকে বাস্তব
করার জন্য চাই
পূর্ব-
পরিকল্পনা আর
প্রস্তুতি। সেই
প্রস্তুতির
একটা বড় অংশ
হচ্ছে বাড়ি
নির্মাণের জন্য
কী কী করতে হয়
তা আগে থেকে
জেনে নেয়া।
আপনার
বাড়ি নির্মাণের
কাজগুলো আরেকটু
সহজ করে দেবার
জন্যই
কেএসআরএম-এর
এই উদ্যোগ।
বাড়ি নির্মাণের
জন্য শুষ্ক, সমতল
জমি সবচেয়ে
উপযোগী। বিভিন্ন
ধরনের জমির
বৈশিষ্ট্য
জেনে নেবার জন্য
অভিজ্ঞ
ইঞ্জিনিয়ারের
পরামর্শ নিন।
২) জমির এলাকার
ব্যাপারে জেনে নেয়া
এছাড়াও
যে এলাকাতে
আপনার
বাড়িটি হবে সে
এলাকার
ব্যাপারে আপনার
কিছু তথ্য
জেনে নেয়া জরুরি:
যে এলাকায়
জমিটি কিনছেন
সে এলাকাটি কি
আপনার অফিস
আর আপনার
সন্তানের স্কুল/
কলেজের
কাছাকাছি?
যে এলাকায়
জমি কিনছেন
সেখানে কি আপনার
প্রয়োজনীয়
সুবিধাগুলো (যেমন
বাজার /
ডিপার্টমেন্টাল
স্টোর, হাসপাতাল/
ক্লিনিক)
পাওয়া যাবে?
যে এলাকায়
জমি কিনছেন
সেখানে কি উন্নত
সড়ক যোগাযোগ
ব্যবস্থা আছে?
৩) জমি কেনা
জমি নির্বাচন
করার পর আপনার
জমির বর্তমান
মালিকের
সাথে যোগাযোগ
করতে হবে।
আইনগতভাবে জমি
হস্তান্তর করার
জন্য:
বিক্রেতাকে বলুন
বাংলাদেশ
ভূমি মন্ত্রণালয়
থেকে মিউটেশন
ফর্ম সংগ্রহ
করে তা
সঠিকভাবে পূরণ
করে জমা দিতে।
ফর্মটি ভূমি
মন্ত্রণালয় অফিস
বা তাদের
ওয়েবসাইটে পাওয়া
যাবে এখানে
জমিটির হালনাগাদ
ভূমিকর
দেয়া আছে কিনা তা
নিশ্চিত করুন
বিক্রেতার
কাছে জমিটির
ভায়া দলিল
আছে কিনা প্রশ্ন
করুন। থাকলে তা
ভালোভাবে পড়ে
দেখুন এবং একজন
ভালো উকিলকে
দলিলগুলো দেখিয়ে
তার পরামর্শ নিন।
বাংলাদেশ সাব-
রেজিস্ট্রার
অফিসে জমির
তফসিল
অনুযায়ী বিক্রেতা
স্বাক্ষর
করে জমি আপনার
নামে হস্তান্তর
করে দিবেন।
আপনার স্বাক্ষর
করে জমির
মালিকানা
নিয়ে নিন।
আপনাকে জমির
দলিল ও খতিয়ান
দেয়া হবে।
যদি জমিটির
মালিকানা
সরকারের
কাছে থাকে,
তাহলে তা পুরোপুরি
কিনে নেয়া সম্ভব
নয়। কিন্তু
সরকারি জমি ৯৯
বছর পর্যন্ত
ইজারা বা লিজ
নেয়া যায়। সেই
লিজের জন্য
আপনার সাব-
রেজিস্ট্রার
অফিস
থেকে অরিজিনাল
অ্যালটমেন্ট
লেটার সংগ্রহ
করতে হবে।
৪) বাড়ি নির্মাণ
এবার আপনার
বাড়ি নির্মাণের
পালা। আর্কিটেক্ট
আর
ইঞ্জিনিয়াররা
বাড়ি নির্মাণের
ব্যাপারে আপনার
বিশ্বস্ত বন্ধু
এবং অভিজ্ঞ
পরামর্শক
হিসেবে কাজ
করবেন। আপনার
সরকারি অফিস
থেকে বিভিন্ন
ধরনের অনুমোদন
আর দলিলপত্র
সংগ্রহ করতে হবে,
যেগুলোর বিবরণ
নিচে দেয়া আছে।
উলেখ্য যে,
আপনি ঢাকার
বাইরে অবস্থিত
হলে রাজউক-এর
বদলে আপনার
সিটি
করপোরেশনের
বা পৌরসভার কাছ
থেকে দলিলগুলো
নিতে হবে।
বাড়ি নির্মাণের
জন্য প্রাথমিক
পর্যায়ে আপনার
যে কাজগুলো করতে
হবে তা হচ্ছে:
প্রথমে কোনো
অভিজ্ঞ
ভূমি জরিপ
প্রতিষ্ঠানের
মাধ্যমে আপনার
জমি জরিপ
করিয়ে নিন। নিখুঁত
জরিপের জন্য এখন
ডিজিটাল জরিপ
ব্যবস্থাও পাবেন।
আপনার জমির
মাটির ধরনের ওপর
আপনার
বাড়ি নির্মাণের
প্যান নির্ভর
করবে, তাই সয়েল
টেস্ট প্রথমেই
করিয়ে নেয়া ভালো
রাজউক-এর
সাথে রেজিস্টার
করা কোনো
আর্কিটেক্ট
বা আর্কিটেকচার
ফার্মের
কাছে আপনার
জমির দলিলপত্র
আর ভূমি জরিপের
তথ্য
জমা দিতে হবে
আর্কিটেক্ট
আপনাকে একটি
হাউজ প্যান / বু
প্রিন্ট দেবেন
রাজউক অফিস
থেকে এই প্যানের
অনুমোদন
নিয়ে আসতে হবে।
আপনার
হয়ে আর্কিটেক্টও
এই কাজটি করতে
পারেন
প্যান পাশ
হয়ে যাবার পর
আপনার বাড়ি
নির্মাণকাজের
দ্বিতীয় পর্যায়
শুরু হবে। এ
পর্যায়ে এসে:
একজন
স্ট্রাকচারাল
ইঞ্জিনিয়ারের
সাথে কথা বলুন
স্ট্রাকচারাল
ইঞ্জিনিয়ার
আর্কিটেক্টের
প্যান অনুসরণ
করে আপনার
বাড়ির স্ট্রাকচার
ডিজাইন দেবেন
সে ডিজাইন
অনুযায়ী আপনার
বাড়ির কাজ শুরু
হবে
৫) বাড়ি নির্মাণের
প্রয়োজনীয়
উপকরণগুলো
বাড়ি নির্মাণের
জন্য আপনার রড,
সিমেন্ট, বালু, ইট-
জাতীয় নির্মাণ
সামগ্রীর
প্রয়োজন হবে।
আরো প্রয়োজন
হবে কনট্র্যাকটর
আর শ্রমিকের।
শ্রমিক আর
নির্মাণ সামগ্রীর
ব্যাপারে আপনার
ইঞ্জিনিয়ারের
কাছ
থেকে অবশ্যই
পরামর্শ নিন।
যেকোনো প্রয়োজনে
ইঞ্জিনিয়ারের
সাহায্য
চাইতে দ্বিধা
করবেন না।
আজকাল বিভিন্ন
ইঞ্জিনিয়ারিং
প্রতিষ্ঠান
আছে যেগুলো
সবধরনের নির্মাণ
সেবাই দিয়ে থাকে।
ইঞ্জিনিয়ার আর
আর্কিটেক্টরা
বাড়ি নির্মাণের
ব্যাপারে আপনার
বিশ্বস্ত বন্ধু আর
পরামর্শক
হিসেবে কাজ করবে।

বাড়ির দুর্দশা হয় মালিকের অবহেলায়

একটা বিল্ডিং ডিজাইনে যে
পরিমাণ ফ্যাক্টর অফ
সেফটি ধরা হয়,
তাতে তা কলাপ্স করার
সম্ভাবনাই থাকে না।
কিন্তু তারপরেও
এতো বিল্ডিং কেন
ধসে পড়ছে????
এবার আসুন দেখি ফ্যাক্টর অফ
সেফটি গুলো কিভাবে আসছে
----- ----- ----- ----- -----
১) সয়েল টেস্ট রিপোর্টের
মাটির
বিয়ারিং কেপাসিটিতে ২-৩ পর্যন্ত ফ্যাক্টর অফ সেফটি ধরা থাকে।
২) লোড কম্বিনেশনে ডেড
লোড আর লাইভ
লোডে যথাক্রমে ১.২ ও ১.৬
ফ্যাক্টর অফ সেফটি ধরা থাকে।
৩) ঝড় তুফান আর ভূমিকম্পের
সাথে সর্বোচ্চ লাইভ লোড
পাবার সম্ভাবনাও খুবই কম, তাই
লোড কম্বিনেশনেও
একটা সুবিধা পাওয়া যায়।
৪) মোমেন্ট হিসাবেও
একটা ফ্যাক্টর অফ সেফটি ধরা থাকে।
৫) ভালো ডিজাইনাররা
ডিজাইনে ঢালাইয়ের
স্ট্রেন্থ ২৫০০ পিএসআই ধরলেও
বাস্তবে ৩০০০ পিএসআই কনক্রিট
স্ট্রেন্থের সাজেস্ট করেন।
৬) অনেক ডিজাইনার আবার
কলাম/বিম ডিজাইনে যা রড
আসে তারচেয়ে একটা বা দুটা রড
বেশি দেন।তাহলে বলেন, বিল্ডিং কেন
ধসে??????

এখন আসেন দেখি, পাবলিকের
পইতালি কিভাবে একটা
বিল্ডিং ডিজাইনকে দুর্বল
করে--------
১) মালিকের পইতালি—
যদি ডিজাইনে পাইল দেন,
তাহলে হুদাই ঘ্যানর ঘ্যানর
করবে এই বলে, “ ভাই
পাইলটা কি কুনো ভাবেই বাদ
দেয়া যায় না???”
আপনে যদি “না” করেন
তাহলে জমির মালিক
অতি জ্ঞানী হইলে আপনারে
এভয়েড করে কিছু কিছু ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার আছে, তাদের
দিয়া থাম্ব রুলে পাইল বাদ
দিয়ে বিল্ডিং বানাবে।
আপনে বিল্ডিং এর বিম/কলামে যে রড যে কয়টা দিতে বলবেন,
সে পাশের বাড়ির কলামের
রডের সাথে তুলনা করে তার
চেয়ে কম রড দিবে। আর
সাথে তো তত্ত্বাবধায়ক
উপদেষ্টা মি. রাজমিস্ত্রি
ওরফে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার
তো আছেই।
মালিক আর রাজমিস্ত্রির
এহেন মাদবুরি উপরের বর্ণিত
১,২,৩,৪ আর ৬ নং ফ্যাক্টর অফ
সেফটিকে দুর্বল করে ফেলবে।
সাধারণত সিমেন্টের গুনাগুণ
সর্বোচ্চ দুই মাস পর্যন্ত
মোটামোটি ভালো থাকতে
পারে,
যদি আপনে তা ভালো করে
সংরক্ষণ করতে পারেন। কিন্তু
অধিকাংশ সময়ে ডেম
সিমেন্ট দিয়েই
অনেকে ঢালাই করে। এটা
নং ফ্যাক্টর অফ সেফটিকে দুর্বল
করে ফেলবে।
২) মি রাজমিস্ত্রি ওরফে সিভিল
ইঞ্জিনিয়ারের পইতালি
এদের টলটলা ঢালাই
মসলা না হলে মন ভরে না, তাই
ঢালাইয়ের বন্ধু কাম শত্রু
অতিরিক্ত
পানি দিয়ে মসলা মিশাবে
যা ৫ নং ফ্যাক্টর অফ
সেফটিকে দুর্বল করে ফেলবে।
ডিজাইনারের
অবর্তমানে অতি আগ্রহে জমির
মালিকের টাকা সেইভ করার
জন্য বিভিন্ন সময় রডের
ডিজাইন চেঞ্জ
করবে এবং সিমেন্ট কম দিবে।
কিন্তু ঢালাইয়ের
মালটা ভালো করে মিশাবে
না কিংবা কাস্টিং করার
সময় ভালো করে কম্পেক্ট
করবে না। এতে করে ফ্যাক্টর
অফ সেফটিগুলো আবার দুর্বল
হবে।
আবার আপনে ডিজাইন
করাবেন কমার্শিয়াল
বিল্ডিং কিন্তু
সেখানে ভাড়া দিবেন
ফ্যাক্টরি,
কিংবা ডিজাইনারকে বলবেন
৬ তালা করবেন কিন্তু
বাস্তবে করবেন ৯ তালা,
সেক্ষেত্রে আপনার
অতি মুনাফা লোভ
সবগুলা ফ্যাক্টর অফ
সেফটিগুলো খেয়ে ফেলবে।
সুতরাং বুঝতেই পারতাছেন
আপনাদের
উস্তাদি প্রতি ধাপে ধাপে
কিভাবে ফ্যাক্টর অফ
সেফটিগুলো
খেয়ে ফেলে।
যার কাজ তাকে করতে দিন
এবং দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার
দিয়ে বিল্ডিং বানান।

সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৪

প্রয়োজনীয় কিছু ম্যাটারিয়ালস সম্পর্কে জেনে নিন


মাইল্ড স্টীল:
এর গায়ে কোন ক্র্যাক
থাকবে না
মরিচা থাকবে না
ওজন প্রতি ঘনমিটারে ৭৮৫০
কেজি এর কম হবে না
একে ৯০
ডিগ্রি বাঁকিয়ে আবার
সোজা করলে এর কোন
প্রভাব পড়বে না বা ক্র্যাক
তৈরি হবে না

সিমেন্ট:
ভাল সিমেন্টের রং সবুজাভ
গ্রে হবে
এর মধ্যে কোন শক্ত পিন্ড
থাকবে না, অন্য কোন কিছু
মেশানো থাকবে না
ব্যাগের মধ্যে হাত
দিলে ঠান্ডা অনুভব হবে
সামান্য পরিমান সিমেন্ট
নিয়ে পানি ভর্তি বালতির
পাণির উপর
ছেড়ে দিলে কিছুক্ষন
পানির উপর সিমেন্ট
থাকবে। ছিটানোর
সাথে সাথেই
নিচে পড়ে যাবে না
দুই আঙ্গুলের মধ্যে সিমেন্ট
নিয়ে আঙ্গুল
ঘষতে খষখসে হবে না,
পিচ্ছিল হবে।
প্রতি ঘণমিটারে ওজন ১৪৪০
কেজির কম হবে না।
ইনিশিয়াল
সেটিং বা সাধারণ জমাট
বাধার সময় ৪৫ মিনিটের কম
হবে না। শক্ত বা কঠিন হওয়ার
সময় ১০ ঘন্টার বেশি হবে না
স্টোন চিপস বা পাথর
নন-প্লাস্টিক হবে। অর্থাৎ
একে চ্যাপটা বা টেনে
লম্বা করা যাবে না
অর্গানিক বা অন্যান্য
বাহিরের কোনকিছু মিশ্রণ
থাকবে না
ভাল গ্রেডের হতে হবে
প্রতি ঘনমিটারে ওজন ১৬১০
কেজির কম হতে পারবে না
৩% এর
বেশি ময়লা হতে পারবে
না
বালি:
কোন জিবাস্ম মিশ্রিত
থাকবে না
অন্যান্য অপ্রযোজনীয়
কোনকিছু মিশ্রন থাকবে না
হাতের মুঠে কিছু
বালি নিয়ে মুঠের
মধ্যে নাড়াতে হবে। এবার
মুঠ
খুলে বালি ফেলে দিতে
হবে।
যদি হাতে ময়লা লেগে
থাকে তাহলে বুঝতে হবে
সেটা ভাল বালি না
গ্লাসের মধ্যে কিছু
পানি দিয়ে তার
মধ্যে বালি মেশাতে হবে।
এবার কিছুক্ষন
রেখে দিতে হবে।
যদি কিছুক্ষন পার
বালি তলানিতে যায়
এবং পানির
উপরিভাগে কোন
ময়লা না থাকে,
তাহলে বুঝতে হবে বালি
ভাল।
পানি যদি ঘোলা থাকে
তাহলে বুঝতে হবে কাদা
বা অন্য কিছু আছে,
এবং সেটা ভাল বালি না।

ইট বা ব্রিকস:
রং সুন্দর হবে এবং খুব
ভালভাবে সমভাবে পুড়তে
হবে
উপরিভাগে কোন ক্র্যাক
থাকতে পারবে না
একই ধরণের সাইজ ও আকার
হতে হবে
ধারগুলি সার্প
বা ধারালো বা সুন্দর
হতে হবে
দুইটা ইট পরষ্পরের
সাথে বাড়ি দিলে টংটং
শব্দ দিবে
ভাঙা ইটের পার্শ্বে কোন
ছিদ্র থাকবে না। উজ্জ্বল
হবে এবং রং বাইরের মতই
হবে
কোনকিছু দিয়ে আচড়
দিলে আচড় পড়বে না
প্রতি ঘণমিটারে ওজন ১৮৫৬
কেজির কম হবে না
পানি শোষণ ক্ষমতা ২০% এর
বেশি হবে না
এক মিটার
উচ্চতা থেকে শক্ত কোন
কিছুর উপর
ফেলে দিলে ভেঙে যাবে
না
পানিতে ২৪
ঘন্টা চুবিয়ে রেখে তারপর
উঠিয়ে কোন ছায়ার
মধ্যে শুকাতে দিলে এর
গায়ে লবনাক্ততা বা সাদা
ছাপ ভেসে উঠবে না।

123123