রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৫
শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৫
আর.সি.সি একমুখি স্ল্যাব ডিজাইনের নীতি (principle of rcc one away slab)
আরসিসি একমুখী সলিড স্ল্যাবের নুন্যতম পুরুত্ব :
স্ল্যাব ডিফ্লেকশনের পরিমান
বিবেচনা ব্যাতিরেকে ACI কোড
অনুযায়ী ওয়ান ওয়ে স্ল্যাব এর নুন্যতম পুরুত্ব বা গভীরতা হবে,
1. সাধারনভাবে স্থাপিত স্ল্যাবের নুন্যতম পুরুত্ব , t=L/25
2. আংশিক বিছিন্ন স্ল্যাবের নুন্যতম পুরুত্ব , t=L/30
3. সম্পূর্ণঅবিছিন্ন স্ল্যাবের নুন্যতম পুরুত্ব , t=L/35
4. ক্যান্টিলিভার স্ল্যাবের নুন্যতম পুরুত্ব , t=L/12
স্ল্যাবের আনুমানিক পুরুত্ব বা গভীরতাঃ
t=প্রতি মিটার কার্যকারী স্প্যান দৈর্ঘ্য 3.3 সেমি থেকে 4 সেমি ধরা হয়।
অর্থাৎ, t=0.033L থেকে 0.04L ধরা হয়।
ACI কোড অনুযায়ী ওয়ান ওয়ে স্ল্যাব
এর পুরুত্ব 7.5 সেমি এবং মেঝে স্ল্যাবের পুরুত্ব 9 সেমি এর কম হওয়া উচিত নয়।
তবে ACI কোড অনুসারে বর্তমানে 10 সেমি এর কম পুরুত্বের স্ল্যাব ঢালাই করা হয় না।
একমুখী স্ল্যাব এ সংকোচন ও তাপীয় রডের প্রয়োজনীয়তা:
ঢালাই করার পর শক্ত হওয়ার ফলে কংক্রিটের সংকোচন ঘটে এবং তাপমাত্রার তারতম্যের ফলে কংক্রিট সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। সেজন্য স্ল্যাবের মধ্যে সৃষ্ট পীড়ন প্রতিরোধ করার জন্য রড ব্যবহার করা হয়।
একমুখী স্ল্যাবে ব্যবহৃত প্রধান রডগুলো এদের আড়াআড়ি দিকের ফাটল সৃষ্টিকারী তাপ পীড়ন প্রতিরোধ করতে পারে না। সুতরাং এ তাপ পীড়ন প্রতিরোধের জন্য প্রধান
রডের আড়াআড়ি তাপীয় রড ব্যবহার করা হয়।
তাপীয় রডের নুন্যতম পরিমাণ:
মসৃণ বারের ক্ষেত্রে = 0.0025bt
ডিফর্মড বারের ক্ষেত্রে = 0.0018bt থেকে 0.002bt
এখানে,, bt= স্ল্যাবের বিবেচিতভফালির প্রস্থচ্ছেদীয় ক্ষেত্রফল
আর.সি.সি একমুখি স্ল্যাব ডিজাইনের ধাপসমুহ:
একমুখীস্ল্যাব ডিজাইনের ক্ষেত্রে, স্ল্যাবের প্রস্থকে স্প্যান হিসেবে ধরা হয় এবং প্রস্থ বরাবর 1 মিটার বিশিষ্ট ফালি ধরে বীমের ন্যায় ডিজাইন করা হয়।
ধাপ ১: ডিজাইন লোড নির্ণয় স্ল্যাবের নিজস্ব ওজনঃ
স্লাবের গভীরতা নির্ণয় করে একক ওজনের সাহায্য প্রতি বর্গমিটার স্ল্যাবের ওজন ণির্ণয় করা হয়।
স্ল্যাবের প্রতি বর্গমিটারে লাইভ লোড ও অন্যান্য ডেড লোডের পরিমাণ।
স্প্যানের উপড় মোট বিস্তৃত লোড W={(স্ল্যাবের নিজস্ব ওজন+লাইভ লোড ও অন্যান্য লোড)X স্প্যান দৈর্ঘ্য }কেজি
ধাপ ২: সর্বোচ্চ শিয়ারঃ
1. সাধারনভাবে স্থাপিত/ অবিছিন্ন স্ল্যাবের ক্ষেত্রে, সর্বোচ্চ শীয়ার V=W/2 kg হবে।
2. আংশিক অবিছিন্ন স্ল্যাবের ক্ষেত্রে,
বিছিন্ন প্রান্তে শিয়ার বল, V=0.4W
অবিছিন্ন প্রান্তে শিয়ার বল, V=0.6W
ধাপ ৩: সর্বোচ্চ বেন্ডিং মোমেন্টঃ
সাধারনভাবে স্থাপিত হলে M = (wl/8)X100 kg-cm
পুরোপুরি অবিছিন্ন হলে M = (wl/12)X100 kg-cm
আংশিক অবিছিন্ন হলে M = (wl/10)X100 kg-cm
ধাপ ৪: স্ল্যাবের গভীরতাঃ
স্ল্যাবের কার্যকরীভগভীরতা, d=route over(M/Rb)
এখানে, M= সর্বোচ্চ বেন্ডিং মোমেন্ট
b= বিবেচিত ফালির প্রস্থ =1m=100cm
এবং R=1/2 fcjk
K=n/{n+(fs/fc)}
J=1-(k/3)
মোট গভীরতা =কার্যকরী গভীরতা +(রডের ব্যাস/২)+মুক্ত কাভারিং
উল্লেখ্য যে, মোট গভীরতার মানভআনুমানিক পুরুত্বের চেয়ে বেশি হবে না।
ধাপ ৫: টান রডের ক্ষেত্রফলঃ
এক মিটার স্ট্রিপ এর জন্য রিইনফোর্সমেন্ট এর পরিমাণ As=M/fsjd
রডের কেন্দ্র থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দুরুত্ব S=(bxas)/As
যেখানে, b=100cm
এবং as=নির্ধারিত সাইজের একটি রডের ক্ষেত্রফল, প্রধান রডের সর্বোচ্চ ব্যবধান স্ল্যাবের পুরুত্বের 3 গুন বা ৪৫ সেমি এর বেশি হবে না।
ধাপ ৬: শিয়ার পীড়নঃ
সাপোর্টে সর্বোচ্চ শিয়ার পীড়ন, V= V/bd
সাপোর্ট থেকে দুরুত্বেশিয়ার স্ট্রেস , V= Vcr/bd
Vএর মান vc অপেক্ষা কম হলে স্ল্যাবটি নিরাপদ।
অতএব, vc=0.292(route over f’c)
ধাপ ৭: বন্ড স্ট্রেসঃ
বন্ড স্ট্রেস এর মান,u=V/summation of 0 x jd Summation of 0=NxpaixD [N=b/s]
প্রাপ্ত বন্ড স্ট্রেস এর পরিমান সর্বদা অনুমোদনযোগ্য বন্ড স্ট্রেস এর চেয়ে কম হবে।
অনুমোদনযোগ্য বন্ড পীড়ন:
টপ বারের ক্ষেত্রে ,=2.29xroute over f’c/D এবং সর্বোচ্চ 24.6 কেজি/বর্গসেমি
অন্যান্য বারের ক্ষেত্রে ,=3.23xroute over f’c/D এবং সর্বোচ্চ 35.2 কেজি বর্গসেমি
এখানে, D= প্রধান রডের ব্যাস
ধাপ ৮: সংকোচন তাপ রডের ক্ষেত্রফলঃ
মসৃণ বারের ক্ষেত্রে A’s= 0.0025bt
ডিফর্মড বারের ক্ষেত্রে A’s= 0.0018bt থেকে 0.
002bt তাপ রডের ব্যবধান s=100as A’s
এখানে, as=একটি তাপ রডের
প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল।
ACI কোড অনুযায়ী তাপ রডের সর্বোেচ্চ ব্যবধান স্ল্যাব পুরুত্বের ৫ গুন অথবা 45 সেমি এর বেশি না।
রি-ইনফোর্স বার চেইক করার বিবেচ্য বিষয়সমুহ
ড্রয়িং এর নাম্বার ও তারিখ ঠিক আছে কিনা বার বেন্ডিং শিডিউল করা আছে কিনা
18 গেজ তার দিয়ে ঠিকমত রড বাধা হয়েছে কিনা তা ভালমত চেইক করতে হবে।
কোন পরিবর্তন থাকলে সেটা করা হযেছে কিনা দেখে নিতে হবে। বর্তমান রডের সাথে নতুন রডের এলাইনমেন্ট ঠিক থাকতে হবে
বারের সাইজ ও স্পেসিং ড্রয়িং অনুসারে থাকতে হবে।
চেয়ার দেয়া আছে কিনা ঠিক মত
রি-ইনফোর্সমেন্ট এর ক্লিয়ার কভার ঠিক আছে কিনা দেখতে হবে।
ক্লিয়ার কভারের জন্য ব্লক তৈরি আছে কিনা, এবং ব্লক ঠিকমত দেয়া হয়েছে কিনা
অতিরিক্ত রি-ইনফোর্সমেন্ট দেয়া হলে তার
রেকর্ড রাখতে হবে এবং সাইন নিতে হবে
কন্সট্রাকশন জয়েন্ট ঠিক আছে কিনা রড বসানোর পুর্বেই তা চেক করে নিতে হবে
সেই বারের ডায়া যেখানে হবে, ড্রয়িং অনুসারে সেখানে থাকতে হবে।
রিবারের টেষ্ট রেজাল্ট থাকতে হবে ল্যাপিং লেন্থ ও পজিশন ঠিক আছে কি না।
নির্মাণ কাজের এককসমূহ
১ মাটি কাটা ও মাটি ভরাটের কাজের একক =ঘনমিটার
২ বালি ভরাটের কাজের একক= ঘনমিটার
৩ ভিতে ও মেঝেতে সিমেন্ট কংক্রিটের কাজের একক =ঘনমিটার
৪ আর.সি.সি কাজের একক=(কলাম,বীম,ছাদ,....) ঘনমিটার
৫ এক স্তর ফ্ল্যাট সোলিং এর কাজের একক =বর্গমিটার
৬ ডিপিসির কাজের একক= বর্গমিটার
৭ জলছাদের বা লাইম ট্রেসিং এর কাজের একক =বর্গমিটার
৮ প্লাস্টারিং এবং পয়েন্টিং এর কাজের একক =বর্গমিটার
৯ চুনকাম,রংকরণ, ডিস্টেম্পার এর কাজের একক = বর্গমিটার
১০ দরজা,জানালা ও গ্রিলে রংকরণ এর কাজের = একক বর্গমিটার
১১ নিট সিমেন্ট ফিনিশিং এর কাজের একক = বর্গমিটার
১২ দরজা-জানালায় কাঁচের কাজের একক = বর্গমিটার
১৩ মোজাইক,টালি এবং প্যাটেন্ট স্টোনের কাজের একক = বর্গমিটার
১৪ বারান্দা,সিড়ির রোলিং এর কাজের একক = বর্গমিটার
১৫ দরজা ও জানালার বিভিন্ন ফুটিং এর কাজের একক = সংখ্যা
১৬ ২৫ সেমি. ইটের গাঁথুনীর কাজ ঘনমিটার
১৭ ১২.৫ সেমি. ইটের গাঁথুনীর কাজ বর্গমিটার
১৮ চৌকাঠের কাজের একক ঘনমিটার
১৯ কাঠের পাল্লার কাজের একক বর্গমিটার
২০ এম.এস রডের কাজের একক টন বা কুইন্টা
কংক্রিট স্থাপন (Setup of Concrete)
প্রাথমিক জমাট বাধা সময় আরম্ভ হওয়ার পূর্বেই কংক্রিট স্থাপন এবং কম্পাকশন করা উচিত। কংক্রিট স্থাপনায় বিশেষ সতকর্তা অবলম্বন করা প্রয়োজন। উঁচু হতে কংক্রিট
ফেলে দিলে অপেক্ষাকৃত ভারি কণাগুলো নিচে পড়ে যায় এবং কংক্রিট উপাদানসমুহের সেগ্রিগেশন ঘটে।
কংক্রিটে এটা সর্বোতভাবে পরিহার্রয।তাই
আনুভুমিক স্তরে স্তরে কংক্রিট স্থাপন
করতে হয়। এ জন্য কোন অবস্থাতেই এক মিটারের বেশি উঁচু স্থান হতে কংক্রিট ফেলা উচিত নয়।
কংক্রিট স্থাপনের পূর্বে ফর্মওয়ার্ক শক্ত এবং ঠিক অবস্থানে আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
ফর্মওয়ার্ক এর অন্তঃস্থ প্বার্শ পরিষ্কার ও
তৈলাক্ত হতে হবে। জোড় সংখ্যক স্তরে কংক্রিট স্থাপন করতে হবে। প্রতি স্তরে ১৫-৩০ সেমি পুরুত্বের কংক্রিট স্থাপন করতে হবে।
একটি স্তরকে কম্পাকশন করার পর পরবর্তী স্তরের কংক্রিট স্থাপন করতে হবে। শক্ত হওয়ার পূর্বে কংক্রিট স্থাপনের কাজ শেষ
করতে হবে।কোন অবস্থাতেই কংক্রিট মিশ্রণে পুনরায় পানি দেওয়া যাবে না। কম্পাকশন
করার সময় যাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত
কংক্রিটকে পুন:স্থাপন করতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
অন্যথায় সাটারিং, রিইনফোর্সমেন্ট এবং অন্যান্য দ্রব্য স্থানচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কংক্রিট স্থাপনার সময় নিম্নলিখিত সতর্কতাগুলো মেনে চলা উচিতঃ
অবিরামভাবে কংক্রিট স্থাপন করতে হবে।
অনিয়মিত এবং খাড়াভাবে ফেলা যাবে না।
কংক্রিট স্থাপনের পূর্বেই ফর্মওয়ার্ককে ভালভাবে তৈলাক্ত করতে হবে।
কংক্রিট স্থাপনার সময় ফর্মওয়ার্ক ও
রিইনফোর্সমেন্টকে আলোড়িত করা চলবে না।
সেগ্রিগেশন পরিহার করতে হবে।তাই ১ মিটারের বেশি উচু স্থান হতে কংক্রিট ফেলা যাবে না। বৃষ্টির মধ্যে কংক্রিট স্থাপন করা উচিত নয়। ম্যাস কংক্রিটের ক্ষেত্রে প্রতি স্তরে ৩০-৪৫ সেমি এবং আরসিসি এর ক্ষেত্রে ১৫-৩০ সেমি এর বেশি পুরুত্বে কংক্রিট স্থাপন করতে নেই।
হাটা অবস্থায় অর্থাৎ দাড়িয়ে কংক্রিট ঢালতে নেই। যতদুর সম্ভব খুব নিকট থেকে কংক্রিট ঢালতে হবে।
কংক্রিটে ব্যবহৃত সিমেন্ট ও পানির অনুপাতক
কংক্রিটে ব্যবহৃত সিমেন্ট ও পানির
অনুপাতকে পানি সিমেন্ট অনুপাত বলে ।
অর্থাৎ, কংক্রিট মিশ্রণে পানির আয়তনের সাথে সিমেন্টের আয়তনের অনুপাতকে পানি সিমেন্ট অনুপাত বলে।
কংক্রিটের শক্তি নিয়ন্ত্রনে পানি সিমেন্ট অনুপাত
খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পানির পরিমাণ নির্ভর করে মুলত,
প্রথমতঃ এগ্রিগেট ভিজানোর জন্য।
দ্বিতীয়তঃ কার্যোপযোগী করার জন্য।
তৃতীয়তঃ রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য।
সিমেন্ট সর্বদা ওজনে পরিমাপ করা উচিত। কারণ ঢিলা অবস্থায় ঘনত্ব কম থাকে। তখন
প্রতি ঘনমিটার সিমেন্টের ওজন ১১২০ কেজি।
আবার সিমেন্ট যখন ঘনীভূত অবস্থায় থাকে থাকে, তখন প্রতি ঘনমিটার সিমেন্টের ওজন ১৬০২ কেজি। এক লিটার সিমেন্টের ওজন সাধারণত ১.৪৪ কেজি ধরা হয়।
প্রতি বস্তা সিমেন্টের ওজন ৫০ কেজি বা ৩৫ লিটার। তাই পানি সিমেন্ট অনুপাত ওজনে প্রকাশ না করে বরং প্রতি ব্যাগ
সিমেন্টে কত লিটার পানি লাগবে তা প্রকাশ করা হয়।
পানি সিমেন্ট অনুপাত একটা ভগ্নাংশ সংখ্যা। এ অনুপাত কংক্রিটের শক্তির উল্টানুপাতিক। অর্থাৎ, অনুপাতের মান যত কম হবে কংক্রিটের শক্তি তত বৃদ্ধি পাবে। সদ্য মিশ্রিত কংক্রিটের অবশ্য কার্যোপযোগীতা থাকতে হবে। কারণ, পানি বেশি হলে ঢ়ালাই করার সময় মোটা দানা উপাদান নিচে পড়ে যায়
এবং উপড়ে সিমেন্ট গোলা ভেসে উঠে। আবার পানির পরিমাণ খুব কম হলে মিশ্রণ নাড়াচাড়া ও ঢ়ালাই করা অসুবিধাজনক হয়। রাসায়নিক বিক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং কংক্রিটের
ভিতরে ফাঁকা থেকে যায়। ফলে মধু চক্রিকার সৃষ্টি করে। উভয় অবস্থায় কংক্রিট দুর্বল হয়। সাধারণত পানির ওজন,সিমেন্টের ওজনের অর্ধেক হলে চলে।তবে বিশেষ শক্তির কংক্রিটের জন্য অনুপাতও ভিন্ন হয়।
যেমন: ১:১:২ অনুপাতের কংক্রিটের জন্য পানি সিমেন্ট অনুপাত প্রায় ০.৪৫ ।
১:১.৫:৩ অনুপাতের জন্য ০.৫০ এবং ১:২:৪ অনুপাতের কংক্রিটের জন্য ০.৫৫-০.৬৬ হয়ে থাকে।
এক জন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্ব তথা কাজের পরিধি
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের অফিস এবং মাঠ উভয়
পর্যায়ে কাজ করতে হয়।
• চুক্তিকারী এবং পরামর্শক ইঞ্জিনিয়ারদেরকে একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে কাজ করতে হয়।
• তাদেরকে দুর্যোগ প্রশমন এবং ব্যবস্থাপনার
মত সংকটময় পরিস্থিতির সমাধানও করতে হয়।
• নির্মাণ প্রকৌশলীরা তেল রিগস, বহুতল বিশিষ্ট গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা অথবা বাড়ির নকশা এমন ভাবে তৈরি করেন যাতে নির্মাণ কাঠামোটি যে ভার
বহনের জন্যে তৈরি করা হয়েছে তা নিশ্চিৎ
করা যায়। তারা নতুন নতুন নির্মাণ সামগ্রী ও
কৌশল উদ্ভাবন করে থাকেন যেমন- বিশেষ ধরণের সেতু কাঠামো ও বিশেষ ধরণের
বিল্ডিং কাঠামো ইত্যাদি।
• পানি ব্যবস্থাপনা ইঞ্জিনিয়াররা পানি সরবরাহ, পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রনের উপর বিশেষভাবে পারদর্শী হয়ে থাকেন।
• হাইওয়ে ইঞ্জিনিয়ারগণ সাধারণতঃ রাস্তা ঘাটের পুননির্মাণ,ট্রাফিক লাইট, গলি, পার্কিং স্পেস ইত্যাদির পরিকল্পনা তৈরি করে থাকেন।
• হাইওয়ে ইঞ্জিনিয়ারগন প্রধানত রাস্তা নির্মান এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কাজের সাথে জড়িত।
এক জন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্ব তথা কাজের পরিধি
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের অফিস এবং মাঠ উভয়
পর্যায়ে কাজ করতে হয়।
• চুক্তিকারী এবং পরামর্শক ইঞ্জিনিয়ারদেরকে একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে কাজ করতে হয়।
• তাদেরকে দুর্যোগ প্রশমন এবং ব্যবস্থাপনার
মত সংকটময় পরিস্থিতির সমাধানও করতে হয়।
• নির্মাণ প্রকৌশলীরা তেল রিগস, বহুতল বিশিষ্ট গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা অথবা বাড়ির নকশা এমন ভাবে তৈরি করেন যাতে নির্মাণ কাঠামোটি যে ভার
বহনের জন্যে তৈরি করা হয়েছে তা নিশ্চিৎ
করা যায়। তারা নতুন নতুন নির্মাণ সামগ্রী ও
কৌশল উদ্ভাবন করে থাকেন যেমন- বিশেষ ধরণের সেতু কাঠামো ও বিশেষ ধরণের
বিল্ডিং কাঠামো ইত্যাদি।
• পানি ব্যবস্থাপনা ইঞ্জিনিয়াররা পানি সরবরাহ, পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রনের উপর বিশেষভাবে পারদর্শী হয়ে থাকেন।
• হাইওয়ে ইঞ্জিনিয়ারগণ সাধারণতঃ রাস্তা ঘাটের পুননির্মাণ,ট্রাফিক লাইট, গলি, পার্কিং স্পেস ইত্যাদির পরিকল্পনা তৈরি করে থাকেন।
• হাইওয়ে ইঞ্জিনিয়ারগন প্রধানত রাস্তা নির্মান এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কাজের সাথে জড়িত।
কলাম ঢালাই এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিষয় ও সতকর্তা
কলামগুলো সাধারণত ১০ ফুট
উচ্চতর হয়ে থাকে।
কলাম ঢালাই করতে হবে দুই ধাপে।
প্রথমে ৪.৫০ ফুট তারপর বাকি ৪.৫০ ফুট।
বাকি ১ ফুট স্লাব কাস্টিং তথা স্লাব ঢালাইয়ের সাথে করতে হবে।
প্রতি ১ ব্যাগ সিমেন্টের জন্য ঢালাইয়ের সর্বোচ্চ ২৫ লিটার পানি ব্যবহার করা যাবে।
নির্মাণ সামগ্রীর তালিকা ও একক ওজন
সাধারণ কংক্রিট- ২৩০০ কেজি/ঘনমিটার
আর.সি.সি - ২৪০০ ”
লাইম কংক্রিট - ১৯২০ ”
ইটের গাঁথুনী - ১৯২০ ”
এম.এস.রড - ৭৮৫০ ”
সিমেন্ট - ১৪৪০ ”
ইট - ১১১০ ”
পানি - ১০০০ ”
চুন - ৬৪০ ”
কয়লা - ৯০০ ”
শুকনা বালি - ১৬০০ ”
বিটুমেন - ১০৪০ ”
মার্বেল - ২৫৬০ ”
সিমেন্ট কংক্রিট - ২২৪০ ”
ইটের খোয়া - ১২০০ ”
পাথরের গাঁথুনী - ২৫৬০ ”
চুনা পাথর - ২৪০০ ”
চুনা মসলা - ১৭৬০ ”
বেলে পাথর - ২২৪০ ”
সিমেন্ট মসলা - ১৯২০ ”
জিপসাম মসলা - ১২০০ ”
কাদা - ১৭৬০ ”
সুরকি - ১০১০ ”
মাটি ভরাট - ১৬০০ ”
কোক কয়লা - ৫০০ ”
টালি - ৬৫ ”
হার্ডবোর্ড - ৭ ”
সি.আই.শিট - ১২ ”
টার - ১০১০ ”
সিঁড়ি(Stair) সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী
ইমারতের একতলা থেকে অপরতলায়
নিরাপদে,অনায়াসে এবং দ্রুত গমনাগমনের জন্য কতগুলো ধাপের সাহায্যে যে পথ নির্মাণ করা হয় তাকে সিড়ি বলে।রএটা একটি স্থায়ী কাঠামো। এ সিড়ি দালানের যে জায়গায় অবস্থান করে তাকে সিড়িঘর বলে। এটি ইমারতের এমন জায়গায় নির্মাণ করা উচিত যেন সহজে আলো-বাতাস পাওয়া যায়, ভবনের আবাসিকবৃন্দ স্বচ্ছন্দে প্রবেশ ও বের হতে পারে।
বসতবাড়িতে সিড়ির প্রস্থ ৯০ সেমি.
এবং পাবলিক ভবনের জন্য ১.৫-১.৮ মিটার হওয়া উচিত। আর ওঠা-নামার সুবিধার জন্য প্রতি ফ্লাইটে ১০-১২ টি ধাপ রাখা শ্রেয়।তবে ৩ টির কম ধাপ রাখা উচিত নয়।
সিড়ির হেডরুম কমপক্ষে ২.১-২.৩ মিটার হওয়া উচিত। আর ল্যান্ডিং এর চওড়া ফ্লাইটের চওড়ার কম হওয়া উচিত নয়।
বিভিন্ন প্রকার সিড়ির তালিকা:
একমুখী সিড়ি,
ডগ্-লেগড সিঁড়ি,
ওপেন নিউয়েল সিড়ি ,
জিওমেট্রিক্যাল সিড়ি,
বৃত্তাকার সিড়ি,
বাইফারকেটেড সিড়ি
সিঁড়ির ট্রেড ও রাইজারের মাঝে সম্পর্ক:
বিভিন্ন বিল্ডিং কোড দ্বারা নির্ধারিত নিয়ম-
কানুন মেনে সিড়ি স্ল্যাবের ট্রেড ও রাইজারের
মান নির্ণয় করা হয়। যেহেতু স্ল্যাবের ঢাল সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি এর
মধ্যে রাখতে হবে, সেহেতু ট্রেড ও রাইজারের মধ্যকার সম্পর্ক বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিম্নলিখিত নিয়ম অনুসরণ করলে ট্রেড ও রাইজারের সন্তোষজনক মান পাওয়া যায়।
আমেরিকান কোড অনুযায়ী(America n
Standard):
ট্রেড + রাইজার= ৪৪ সেমি.
ট্রেড x রাইজার= ৪০০-৪৫০ বর্গসেমি.
ইন্ডিয়ান কোড অনুযায়ী (IndianStandard):
ট্রেড + ২ x রাইজ=৬০ সেমি.
ট্রেড x রাইজার= ৪০০-৪১০ বর্গসেমি.
ACI কোড অনুযায়ী ট্রেড ও রাইজারের সবোর্চ্চ এবং সর্বনিম্ন মান হচ্ছে:
ACI কোড অনুযায়ী বসতবাড়িতে ব্যবহৃত
সিড়ি স্ল্যাবের রাইজারের পরিমাপ ১৫ হতে ১৮ সেমি এবং ট্রেডের পরিমাপ ২৩-২৭ সেমি।
পাবলিক বিল্ডিং এ ব্যবহৃত সিড়ি স্ল্যাবের রাইজারের পরিমাপ ১৪-১৫ সেমি এবং ট্রেডের পরিমাপ ২৫-৩০ সেমি হয়।
ওয়েস্ট স্ল্যাবের ওজন নির্ণয়ের পদ্ধতি:
সিড়ির স্ল্যাবকে ওয়েস্ট স্ল্যাব বলা হয়।
মনে করি,
R=রাইজারের উচ্চতা,
T=ট্রেডের প্রস্থ,
S=ওয়েস্ট স্ল্যাবের পুরুত্ব,
ওয়েস্ট স্ল্যাবের ওজন নির্ণয়ের সুত্র= SxR2+T2x 24/T
সিড়ির ধাপের ওজন নির্ণয়ের পদ্ধতি:
ধাপের ওজন নির্ণয়ের সুত্র হলো W=১২Rকেজি/বর্গমিটার
এখানে,
R=রাইজারের উচ্চতা
W=ওজন
সাটারিং কি এবং কেন দেওয়া হয় (suttering)
সাটারিং এর আরেক নাম হলো ফর্ম ওয়ার্ক । এটা হলো অস্থায়ি কাঠামো। কংক্রিট এর কাজ
করার জন্য এর প্রয়োজন বাধ্যতামুলক।
আমরা জানি কংক্রিক কাঁচা অবস্থায় কাদার মত থাকে। শুধুমাত্র জমাট বাধার পর এর
একটি নির্দিষ্ট আকার আসে। এই নির্দিষ্ট আকার দেয়ার জন্য , আকার অনুযায়ি অস্থায়ি কাঠামো তৈরি করা হয়। এর পর এই কাঠামোর মধ্যে কাঁচা কংক্রিট দেয়া হয় এবং শুকানো বা প্রয়োজনীয় শক্ত হওয়ার পর কাঠামো খুলে ফেলা হয়।যেমন কলাম করার ক্ষেত্রে রড বাধার চারপাশে প্রয়োজনীয় ফাকা রেখে কলাম এর আকৃতিতে কাঠামো করা হয়।
এর পর এই ফাপা অংশের ভেতরে কাঁচা কংক্রিট দেয়া হয়।
মোট খরচের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ খরচ হয় এই সাটারিং এর। সাটারিং সাধারণত কাঠ
বা স্টীল এর হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে স্টীল
সাটার বেশি ব্যবহুত।
কেননা এই সাটার অনেকবার ব্যবহার করা যায়, এর পানি শোষন হয় না। আবার এর কংক্রিট এর ভার বহন ক্ষমতাও বেশি। কাঠ দিয়ে সব ধরনের আকার দেয়া যায়না, কিন্তু স্টীল দিয়ে যেকোন আকার দেয়া যায়।
যেমন, রাউন্ড কলাম করতে হলে স্টীল
ব্যবহার করতে হবে। কাঠ দিয়ে করা যাবে না।
ভাল সাটারিং এর প্রয়োজনীয় গুনাগুনঃ
১) এর যথেষ্ট পরিমান ডেডলোড এবং লাইভ লোড বহন করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
২) এটা পর্যাপ্ত দৃঢ় হবে,যাতে ডিফ্লেকশন জনিত কারণে কাঠামোর প্রকৃত আকৃতিরকোন পরিবর্তন না ঘটে ।
৩) ফর্ম ওয়ার্কের ব্যবহৃত মালামাল সহজলভ্য এবং সুলভ মুল্যের হতে হবে।
৪) শক্ত ভিত্তোর উপর ফর্মওয়ার্ক স্থাপন করতে হবে।
৫) পুন:ব্যবহার গুন থাকতে হবে। অর্থাৎ একাধিকবার খুলে কাজে লাগানোর উপযোগি হতে হবে।
৬) সাটারিং খোলার সময় কংক্রিট এর কোন প্রকার ক্ষতি হতে পারবে না।
৭) ফর্ম ওয়ার্কের জয়েন্ট যথেষ্ট মজবুত এবং দৃঢ় হবে যাতে করে সিমেন্ট গ্রাউট লিকেজ না করে ।
৮) আনুভুমিক এবং উলম্ব উভয় দিকেই যথেষ্ট পরিমান সাপোর্ট বা বাধন দিতে হবে।
৯) যত পাতলা হবে ততই ভাল। বেশি ভারি হলে বহন করা, সাটার নিয়ে কাজ করা সমস্যা হবে এবং কাজের গতি কমে যাবে।
১০) এটা পানিরোধী হবে,যাতে কংক্রিট হতে পানি শোষণ করতে না পারে ।
১১) এটা সহজে নির্মাণ এবং খুলে ফেলা যাবে।
ফর্ম ওয়ার্কের উপড় লোডঃ
ফর্মওয়ার্ক নিম্নলিখিত লোড বহন করে
১) সদ্য প্রস্তুতকৃত কংক্রিটের ওজন
২) সদ্য প্রস্তুতকৃত কংক্রিটের হাইড্রোষ্টাটিক প্রেসার
৩) কার্যরত শ্রমিকের ওজন
৪) কম্পনজনিত লোড
৫) ফর্মের মধ্য কংক্রিট ঢালার সময় ইমপ্যাক্ট প্রতিক্রিয়া
ফর্ম ওয়ার্ক খোলার সময়ঃ
১) দেওয়াল,কলাম এবং বীমের খাড়া প্বার্শ ১-২ দিন পর
২) স্লাব প্বার্শের ঠেকনা ৩ দিন পর
৩) বীম তলার ঠেকনা ৭ দিন পর
৪) স্লাব প্বার্শের ঠেকনা ৪.৫ মি: স্প্যান পর্যন্ত ১৪ দিন পর
৫) বীম ৬ মি: স্প্যান পর্যন্ত ১৪ দিন পর
৫) বীম ৬ মি: স্প্যানের বেশি ২১ দিন প
কংক্রিটের সেগ্রিগেশন কি এবং কেন হয়? (cegregation)
সেগ্রিগেশন: খোয়া বা পাথর কুচি থেকে সিমেন্ট - বালির মিশ্রণ পৃথক হওয়াকে সেগ্রিগেশন বলে। মিশ্রণে পানির পরিমাণ কম
হলে খোয়া থেকে সিমেন্ট বালির মিশ্রণ পৃথক
হতে চায়। আবার পানির পরিমাণ বেশি হলে খোয়া ও বালি সিমেন্ট অপেক্ষা ভারী হওয়ায় নিচে থিতিয়ে পড়ে এবং সিমেন্টের গোলা উপড়ে ভেসে ওঠে।
কংক্রিটের সেগ্রিগেশন কেন হয়:
মিশ্রণে প্রয়োজনের তুলনায় পানির পরিমাণ কম হলে খোয়া থেকে সিমেন্ট বালির মিশ্রণ পৃথক হয়। ফলে সেগ্রিগেশন হয়।
মিশ্রণে প্রয়োজনের তুলনায় পানির পরিমাণ বেশি হলে খোয়া ও বালি সিমেন্ট অপেক্ষা ভারী হওয়ায় নিচে থিতিয়ে পড়ে। ফলে সেগ্রিগেশন হয়।
কংক্রিট মিশ্রণ ,স্থাপন এবং দৃঢ়করণ সতকর্তার
সাথে না করলে। বেশি উচ্চতা থেকে কংক্রিট ফেলা হলে সেগ্রিগেশন হয়।
এডমিক্সার বা উপযোগ Admixture
এডমিক্সার বা উপযোগ। এটি কংক্রিট এর কাজের সাথে সম্পর্কিত একটি খুব গুরুত্বপুর্ন শব্দ। এডমিক্সার বা উপযোগ প্রাকৃতিব বা কৃত্তিম উপাদান যা কাচা বা শক্ত কংক্রিট এর অতিরিক্ত যোগ্যতা বা বৈশিষ্ট যোগ করে।
ঠান্ডা গরম প্রতিরোধক বায়ু-বলয় Air entrainment ব্যবহার করা হয় ঠান্ডা-গরম আবহাওয়া সহ্য ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। বিশেষ করে যেই আবহাওয়াতে এটি হয় সেখানে বায়ু-বলয় উপযোগ ব্যবহার করা হয়।
এর ব্যবহারের ফলে কংক্রিট এর মধ্যে ছোট ছোট বাতাশের বল তৈরি হয়। বরফ ঠান্ডাতে কংক্রিট এর মধ্যে অবস্থিত পানি জমাট বেধে আয়তন বৃদ্ধি পায়। আয়তন বৃদ্ধি পাওয়াতে এই বরফ এর ভেতরে চাপ সৃষ্টি করে যা কংক্রিট এর জন্য ক্ষতিকর।
কিন্তু যদি এর ভেতরে ছোট ছোট বলয় থাকে তখন বাতাস এই চাপ নিয়ে কংক্রিট এর উপর থেকে চাপ কিছুটা কমিয়ে ফেলে।
কখনো কখনো এর বায়ু হাইড্রেশন এও সাহায্য করে। বরফ-গরন পক্রিয়া থেকে সুরক্ষার জন্য এই বায়ু বলয় সঠিক আকার, আয়তন এবং বিন্যস্ত হতে হবে।
ASTM C 260 এই এডমিক্চার এর প্রয়োজনীয়
গুনাগুন ঠিক করে দেয়।
এডমিক্চার এর সুবিধাগুলি নিচে দেয়া হলো:
অতি কুয়াশা বা ঠান্ডা থেকে কংক্রিট রক্ষা করে।
কার্য্যউপযোগিতা বাড়ায়।
টেকসই বা মজবুত পানি স্বল্পকরণ (ওয়াটার রিডিউসার) কংক্রিট এ এই এডমিক্চারটি খুব গুরুত্বপুর্ণ।
এটিকে কংক্রিট এর ৫ম উপাদান বলা হয়। এর ব্যবহার এর কারণে তিন ধরণের কাজ করা হয়।
১। স্ল্যাম্প বাড়ানো
২। পানি-সিমেন্ট এর অনুপাত কমানো
৩। সিমেন্ট এর পরিমান কমানো কম, মাঝারি এবং অধিক এই তিন প্রকারে পানি-স্বল্পকরণ এডমিক্চার ব্যবহার করা হয়।
তা নির্ভর করে কাজের পরিধী এবং কাজের প্রকারের উপর। আবার আবহাওয়ার উপরও এই পরিমান ।
যেমন, উচু স্থানে কংক্রিট তুলতে হলে
পাম্প এর সাহয্যে তুলতে হয়। তখন এর স্ল্যাম্প বাড়ানোর প্রয়োজন হয়। অথবা মেঝে বা ছাদের কাজের জন্যও স্ল্যাম্প
বাড়ানোর প্রয়োজন হয়। মোট কথা এই উপযোগ ব্যবহার এর কারণে কংক্রিট এর স্ল্যাম্প বাড়ে কিন্তু শক্তি কমেনা।
সাধারণ ওয়াটার রিডিউসার বা পানি- স্বল্পকরণ এডমিক্চার এটি ৫% পানি কমায়। এবং এর স্ল্যাম্প ১ থেকে ২ ইঞ্চি বাড়ায়।
মাঝারি পানি-স্বল্পকরণ এডমিক্চার এটি ৮% থেকে ১৫% পানি কমায়। ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি স্ল্যাম্প ব্যবহার করতে হলে এটি ব্যবহার করা হয়।
গরম আবহাওয়াতে এটি বেশি ব্যবহার করা
হয় যাতে করে গরম আবহাওয়াতে এর কংক্রিট কম সময়ে জমাট বাধতে না পারে কংক্রিট এর প্রাথমিক জমাট বাধা (সেটিং ) ধীরগতি করে দেয় কংক্রিট রাখা বা কাজের স্থানে ফেল সহজ করে উচ্চ পানি-স্বল্পকরণ এডমিক্চার (সুপারপ্লাস্টিসাইজার) এটি ১২% থেকে ৪০ পর্যন্ত পানি কমায়। ৮ থেকে ১১ ইঞ্চি স্ল্যাম্প ব্যবহার করার জন্য এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কংক্রিটঃ
যেই কংক্রিট এর উচ্চ ক্ষমতা প্রয়োজন এবং কম পানিগম্যতা দরকার সেখানে এই এডমিক্চার ব্যবহার করা হয়। এতে মাহক্রো বা ক্ষুদ্র সিলিকা থাকে। এই উপাদানের ব্যবহারের ফলে কংক্রিট এর যেই বৈশিষ্ঠ্য যোগ হয় তা হলো পারমিয়াবিলিটি বা পানিগম্যতা কমানো এর শক্তি বাড়ানো
টেকসই করা উচ্চ বল বহনকারি কলাম,বীম ইত্যাদি কাঠামোতে এটি ব্যবহার করা হয়। গাড়ি রাখার স্থানেও এটি ব্যবহার করা হয়।
ঘর্ষণ প্রতিরোধক কাঠামোতেও এটি ব্যবহার করা হয়।
এই উপযোগ এর ব্যবহার করে ২০,০০০
পি,এস,আই(PSI) পর্যন্ত কংক্রিট এর চাপ ক্ষমতা বাড়ানো যাই।
এটি পেষ্ট বা অর্ধতরল কিংবা শুকনা
পাউডার হিসাবে ব্যবহার করা যায়। প্রয়োজন অনুসারে অর্ধতরল বা শুকনা পাউডার ব্যবহার করা যায়। যেই প্রকারেই ব্যবহার করা যাক না কেন, গুনাগুন সমান হয়।
সেট এক্সিলারেটর (দ্রুত সেট হওয়া) এর ব্যবহার করা হলে সিমেন্ট এর হাইড্রেশন দ্রুত হয়। যার কারণে অল্পসময়ে কংক্রিট সেট হয় এবং অল্প সময়ে শক্তে অর্জন করে। বিশেষ করে ঠান্ডা তাপমাত্রাতে।
এক সময় ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড এই এডমিক্চার হিসাবে ব্যবহার করা হতো।
কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদী কংক্রিট এর জন্য
ক্ষতিকর।
তাই বর্তমানে ক্যলসিয়াম ক্লোরাইড ব্যবহার করা হয় না। ইউরোপে কিছু কিছু ক্ষেত্র এর ব্যবহার সম্পুর্ন নিষিদ্ধ।
ক্লোরাইড মরিচা ধরতে সাহায্য করে এবং যার ফলে রি-ইনফোর্সমেন্ট হুমকির সম্মুখিন হয়। অনেক সময় কাঠামো ভেঙ্গ পড়ে, ক্র্যাক দেখা যায়।
তবে বর্তমানে ক্লোরাইড বিহীন সেট এক্সিলারেটর পাওয়া যায়। আগে ক্যালসিয়াম ক্লোরাই ব্যবহার করা হতো কারণ এর দাম অনেক কম।
কিন্তু দেখা যায় যে ২০ বছর পর এটি দুর্বল
হয়ে যায়। যেকোন ধরণের এডমিক্চার ব্যবহার এর পুর্ব এর গুনাগুন, ব্যবহার বিধি সতর্কভাবে খেয়াল করতে হবে।
সেট রিটার্ডার (ধিরে সেট হওয়া):
যখন সেটিং সময় বাড়ানোর প্রয়োজন হয়
তখন এই এডমিক্চার ব্যবহার করা হয়। এটি করা হয় যাতে করে কংক্রিট বিছানো, ভাইব্রেশন বা কমপ্যক্শন সঠিক ভাবে করা যায়।
ব্যবহারঃ
অনেক দুরত্বঃ
কংক্রিট এর গাড়ি রাস্তায় অনেক সময় লাগে
বিছানোর জন্য দক্ষ শ্রমিকের অভাবযেই বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে:
-প্রকল্প স্থান
-মিশ্রনের আয়তন
-মিশ্রন বিছানোর দ্রততা
-বিছানোর নিযম
-ব্যবহার স্থান (বাহিরে বা ভেতরে)
-অন্য যেকোনো কারণে দেরি হলে
যদি মোটা কোন কিছু তৈরি করতে হয় তাহলে উপরের অংশ খুব আগে জমাট বেধে যায় এবং নিচের অংশ পরে।
যার কারণে ক্র্যাক দেখা যায়। এর থেকে
রক্ষা পেতেও এই এডমিক্চার ব্যবহার করা হয়।
কখন এর ব্যবহার না করলেও চলবে অল্প দুরত্বে ব্যবহার হলে ঠান্ডা আবহাওয়া এবং ভেতরে ব্যবহার করা হলে বেজমেন্ট দ্রত বিছানো গেলে।
ফ্লাই এ্যাশঃ
ফ্লাই এ্যাশ কয়লার পোড়ানোর কারণ তৈরি হয়। এর ব্যবহারের কারণে কংক্রিট
শক্তিশালি হয়, টেকসই হয় এবং সহজে এই
কংক্রিট দিয়ে কাজ করা যায়। ফ্লাই যোগ করার কারণে কংক্রিট এর মধ্যে পানি প্রবেশের ক্ষমতা কম হয়। অর্থাৎ ইমপারমিয়াবিলিটা বৈশিষ্ঠ্য যোগ হয়। কংক্রিট প্রধানত দুই ধরনের ফ্লাই এ্যাশ ব্যবহার করা হয়। ক্লাশ এফ এবং সি
ক্লাশ এফ ব্লিডিং এবং সেগ্রিগেশন কমায়। শৃঙ্কেজ এবং পারমিয়াবিলিটা কমায়।
হাইড্রেশনের তাপমাত্রা কমায় এবং ক্রিপ
কমায়।
ক্লাশ সি এটি প্রধানত প্রি-স্টেস কংক্রিট এ ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করা যেখানে অল্প সময়ে স্ট্রেন্থ প্রয়োজন সেখানে এটি ব্যবহার
করা হয়।
শীতল আবহাওয়ার জন্য এডমিকচার ২০o ফারেনহাইট তাপমাত্রা কমার কারণে সেটিং টাইম প্রায় দুই গুন হয়ে যায়। এ থেকে রক্ষার জন্য এক্সিলারেটর এবং ওয়াটার রিডিউসার এর সমন্বয়ে এই সমস্যা দুর করা যায় বা কমানো যায়।
গরম আবহাওয়ার জন্য এডমিকচার সাধারণত প্রতি ১০o ফারেনহাইট তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে স্লাম্প ১" কমে যায়। ৩০o ফারেনহাইট তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সেটিং টাইম প্রায় অর্ধেক হয়ে
যায়। পানির প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়।
ওয়াটার রিডিউসিং এবং রিটার্ডার এর ব্যবহার করে গরম আবহাওয়াতে কংক্রিট ব্যবহারে সুফল পাওয়া যায়।